‘নিজের দোষত্রুটি স্বীকার ও অন্যের গুণাবলীর কদর করবে। অন্যের দূর্বলতার প্রতি নজর না দেয়ার মতো বিরাট হৃদয়পটের অধিকারী হবে। অন্যের দোষত্রুটি ও বাড়াবাড়ি মাফ করে দেবে। নিজের জন্য কারো উপর প্রতিশোধ নেবে না। অন্যের সেবা গ্রহণ করে নয় অন্যকে সেবা দিয়ে আনন্দিত হবে। নিজের স্বার্থে নয় অন্যের ভালোর জন্য কাজ করবে। কোন প্রকার প্রশংসার অপেক্ষা কিংবা নিন্দাবাদের তোয়াক্কা না করে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবে। খোদা ছাড়া কারো পুরস্কারের প্রতি দৃষ্টি দেবে না।’
‘বল প্রয়োগ করে তাদের দমন করা যাবে না, ধন-সম্পদের বিনিময়ে ক্রয় করা যাবে না। কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের সামনে নির্দিধায় ঝুঁকে পড়বে। তাদের শত্রুরাও তাদের ওপরে বিশ্বাস রাখবে যে, কোন অবস্থায়ই তারা ভদ্রতা ও ন্যায়নীতি বিরোধী কোন কাজ করবে না। এগুলো তলোয়ারের চাইতেও ধারালো এবং হীরা, মনি-মুক্তার চাইতে মূল্যবান। এ চারিত্রিক গুণাবলী মানুষের মন জয় করে নেয়। এ ধরনের গুণাবলী অর্জনকারীরা চারপাশের জনবসতির উপর বিজয় লাভ করে।”
এছাড়া মাওলানা মওদূদীর মতে এ বিজয়ের জন্য ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে নিম্নোক্ত মৌলিক মানবীয় গুণাবলীর অধিকারী হতে হবে।
ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তগ্রহণ শক্তি, প্রবল বাসনা, উচ্ছাসা ও নির্ভীক সাহস, সহিষ্ণুতা ও দৃঢ়তা, ত্যাগ-তিতিক্ষা, সহনশীলতা ও পরিশ্রমপ্রিয়তা, উদ্দেশ্যের প্রতি প্রবল আকর্ষণ এবং সেজন্য সব কিছুরই উৎসর্গ করার প্রবণতা, সতর্কতা, দূরদৃষ্টি ও অন্তরদৃষ্টি, বোধশক্তি ও বিচার ক্ষমতা, পরিস্থিতি যাচাই করা ও তদানুযায়ী নিজেকে ঢেলে গঠন করা, অনুকূল কর্মনীতি গ্রহণ করার যোগ্যতা, নিজের হৃদয়াবেগ, ইচ্ছা-বাসনা, স্বপ্নসাধ ও উত্তেজনার সংযমশক্তি, অন্য মানুষকে আকৃষ্ট করা ও তাদেরকে কাজে লাগানোর বিচক্ষণতা কারো মধ্যে পুরোপুরি বর্তমান থাকলে তবে এ দুনিয়ায় তার জয় সুনিশ্চিত।
ইসলামী আন্দোলনের সফলতার জন্য আরেকটি মৌলিক বিষয় হচ্ছে- ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। এটা আল্লাহ তা’য়ালার আরেকটি বড় কৌশল। এ পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি সত্য, সঠিক পথ, সবল ও মজবুত ঈমানদারদেরকে মিথ্যা, বাতিল, কৃত্রিম, মেকি, মোনাফিক ও ভেজাল থেকে আলাদা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। যা সত্য পথের পথিক ঈমানদার মুজাহিদদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশাল উপহার। এর মাধ্যমে দূর্বলচিত্ত, ভিতু, কাপুরুষ ও কপট ব্যক্তিরা শতই বাঁচাই ও ছাঁটাই হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
﴿أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوا أَن يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ﴾ ﴿وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۖ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ﴾
‘লোকেরা কি মনে করে রেখেছে, “আমরা ঈমান এনেছি” কেবলমাত্র একথাটুকু বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে, আর পরীক্ষা করা হবে না? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদের সবাইকে পরীক্ষা করে নিয়েছি। আল্লাহ অবশ্যই দেখবেনকে সত্যবাদী এবং কে মিথ্যুক।’ (সূরা আনকাবূত: ২-৩)
﴿أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَأْتِكُم مَّثَلُ الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلِكُم ۖ مَّسَّتْهُمُ الْبَأْسَاءُ وَالضَّرَّاءُ وَزُلْزِلُوا حَتَّىٰ يَقُولَ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ مَتَىٰ نَصْرُ اللَّهِ ۗ أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ﴾
‘তোমরা কি মনে করেছো, এমনিতেই তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করে যাবে? অথচ তোমাদের আগে যারা ঈমান এনেছিল তাদের ওপর যা কিছু নেমে এসেছিল এখনও তোমাদের ওপর সেসব নেমে আসেনি। তাদের ওপর নেমে এসেছিল কষ্ট-ক্লেশ ও বিপদ-মুসিবত, তাদেরকে প্রকম্পিত করা হয়েছিল। এমনকি সমকালীন রসূল এবং তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিল তারা চিৎকার করে বলে উঠেছিল, অবশ্যিই আল্লাহর সাহায্য নিকটেই।’ (সূরা বাকারা: ২১৪)
﴿وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ﴾ ﴿الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ﴾ ﴿أُولَٰئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ﴾
‘আর নিশ্চয়ই আমরা ভীতি, অনাহার, প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতির মাধ্যমে এবং উপার্জন ও আমদানী হ্রাস করে তোমাদের পরীক্ষা করবো। এ অবস্থায় যারা সবর করে এবং যখনই কোন বিপদ আসে বলে, আমরা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর দিকে আমাদের ফিরে যেতে হবে। তাদেরকে সুসংবাদ দাও। তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের ওপর বিপুল অনুগ্রহ বর্ষিত হবে, তাঁর রহমত তাদেরকে ছায়াদান করবে এবং এই ধরণের লোকরাই হয় সত্যানুসারী।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫-১৫৭)
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর প্রিয় হাবিব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
﴿قَدْ نَعْلَمُ إِنَّهُ لَيَحْزُنُكَ الَّذِي يَقُولُونَ ۖ فَإِنَّهُمْ لَا يُكَذِّبُونَكَ وَلَٰكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ﴾
৩৩) হে মুহাম্মাদ ! একথা অবশ্যি জানি, এরা যেসব কথা তৈরী করে, তা তোমাকে কষ্ট দেয় কিন্তু এরা তোমাকে মিথ্যা বলে না বরং এ জালেমরা আসলে আল্লাহর আয়াতকেই অস্বীকার করছে।
﴿وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِّن قَبْلِكَ فَصَبَرُوا عَلَىٰ مَا كُذِّبُوا وَأُوذُوا حَتَّىٰ أَتَاهُمْ نَصْرُنَا ۚ وَلَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ۚ وَلَقَدْ جَاءَكَ مِن نَّبَإِ الْمُرْسَلِينَ﴾
৩৪) তোমাদের পূর্বেও অনেক রসূলকে মিথ্যা বলা হয়েছে কিন্তু তাদের ওপর যে মিথ্যা আরোপ করা হয়েছে এবং যে কষ্ট দেয়া হয়েছে, তাতে তারা সবর করেছে। শেষ পর্যন্ত তদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে গেছে। আল্লাহর কথাগুলো পরিবর্তন করার ক্ষমতা কারোর নেই এবং আগের রসূলদের সাথে যা কিছু ঘটে গেছে তার খবর তো তোমার কাছে পৌঁছে গেছে।
﴿وَإِن كَانَ كَبُرَ عَلَيْكَ إِعْرَاضُهُمْ فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَن تَبْتَغِيَ نَفَقًا فِي الْأَرْضِ أَوْ سُلَّمًا فِي السَّمَاءِ فَتَأْتِيَهُم بِآيَةٍ ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَمَعَهُمْ عَلَى الْهُدَىٰ ۚ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْجَاهِلِينَ﴾
৩৫) তবুও যদি তাদের উপেক্ষা তোমার কাছে অসহনীয় হয়ে থাকে তাহলে তোমার মধ্যে কিছু শক্তি থাকলে তুমি ভূগর্ভে কোন সুড়ঙ্গ খুঁজে নাও অথবা আকাশে সিড়িঁ লাগাও এবং তাদের কাছে কোন নিদর্শন আনার চেষ্টা করো। আল্লাহ চাইলে এদের সবাইকে হেদায়াতের ওপর একত্র করতে পারতেন। কাজেই মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। (সূরা আনআম: ৩৩-৩৫)
সুতরাং যেখানে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘আমি অবশ্যই অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু বিষয়ে পরীক্ষা করবো।’ সেখানে ইসলামী আন্দোলনের এ পথে পরীক্ষা আসাটাই স্বাভাবিক। না আসাটা বরঞ্চ অস্বাভাবিক।
মহান আল্লাহ তা’য়ালা কর্তৃক নির্ধারিত এ পরীক্ষা পদ্ধতিকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে না পেরে কোন কোন ব্যক্তি প্রশ্ন উত্থাপনের চেষ্টা করেন যে, এতগুলো মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি না করে কি পারা যেতো না? কিংবা ইসলামী আন্দোলনের সাফল্যের জন্য এত কুরবানীর কি দরকার ছিলো? অথবা এগুলো সংগঠিত হতে পেরেছে কোন রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের কারনে।
এ ধরনের বক্তব্য শুধু তারাই দিতে পারে যাদের কাছে কুরআনী দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার না। কোন বিশেষ সালকে সামনে এনে যারা এ ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করেন তাদের যদি পাল্টা প্রশ্ন করা হয় ১৯৭০ সালে পল্টনে জামায়াতে ইসলামীর জনসভায় হামলা করে যে ২ জনকে শহীদ করা হলো, সে ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী? কারণ তখন তো ৭১ সাল ছিল না। তারও আগে জামায়াত ইসলামীর প্রথম দিকে লাহোর সম্মেলনে সরকারী গুন্ডাবাহিনী সশস্ত্র হামলা চালিয়ে একজনকে শহীদ করাসহ অসংখ্য আন্দোলনের কর্মীদেরকে আহত করেছিলো। সে ব্যাপারে কি বক্তব্য? তখন তো ৭১ আসেনি।
মিশর ও তুরস্কে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীগণ তাদের স্ব স্ব দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা ও রক্ষার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে আমরা জানি। কিন্তু তাদের ওপরে জুলুম-নির্যাতনের কারন কী? এরকম মতলবী কথাবার্তা বলে মূলত ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের মাঝে সংশয় সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।
যারা ইসলামী আন্দোলনের বিরোধীতা করে তারা মূলত আল্লাহরই বিরোধীতা করে। তাদের ব্যাপারে ফায়সালার ভার আল্লাহর হাতেই রয়েছে। প্রকৃত ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা এসব বিরোধীতা-নির্যাতন দেখে ঘাবড়ে যায় না। এদিক ওদিক ছুটাছুটি এবং পালিয়ে বেড়ায় না। বরং তারা নির্যাতনের সম্মুখীন হয়ে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়। ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বকে আরো বেশী ভালোবাসতে এমনকি নিজের জীবনের চাইতেও ভালোবাসতে শেখে। সব ধরনের নগদ পাওয়ার হাতছানি ভয়ভীতি ও লোভ-লালসার উর্ধ্বে উঠে দীনকে বিজয়ী করার জন্য তারা আরো দৃঢ়তার সহিত নিরলসভাবে কাজ করে যায়।
আর যারা দূর্বলচেতা ও নেফাক্বের রোগে আক্রান্ত তারা এসব পরীক্ষাকে আল্লাহর আযাব মনে করে। এর থেকে নিরাপদ দূরে থাকার চেষ্টা করে। ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী নেতৃত্ব এমনকি ইসলামী আন্দোলনের শহীদ নেতৃবৃন্দের ব্যাপারেও কুৎসা রটনা করতে তারা লজ্জাবোধ করে না। তাদের পরিচয় সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন-
﴿وَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ فَإِذَا أُوذِيَ فِي اللَّهِ جَعَلَ فِتْنَةَ النَّاسِ كَعَذَابِ اللَّهِ وَلَئِن جَاءَ نَصْرٌ مِّن رَّبِّكَ لَيَقُولُنَّ إِنَّا كُنَّا مَعَكُمْ ۚ أَوَلَيْسَ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِمَا فِي صُدُورِ الْعَالَمِينَ﴾ ﴿وَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْمُنَافِقِينَ﴾
‘লোকদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে বলে, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি। কিন্তু যখন সে আল্লাহর ব্যাপারে নিগৃহীত হয়েছে তখন লোকদের চাপিয়ে দেয়া পরীক্ষাকে আল্লাহর আযাবের মতো মনে করে নিয়েছে। এখন যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে বিজয় ও সাহায্য এসে যায়, তাহলে এ ব্যক্তিই বলবে, “আমরা তো তোমাদের সাথে ছিলাম”। বিশ্ববাসীদের মনের অবস্থা কি আল্লাহ ভালোভাবে জানেন না? আর আল্লাহতো অবশ্যই দেখবেন কারা ঈমান এনেছে এবং কারা মুনাফিক। (সূরা আনকাবূত: ১০-১১)
মুনাফিকদের পরিচয় সম্পর্কে পবিত্র আল-কুরআনের সূরা বাকারার কয়েকটি আয়াত উল্লেখযোগ্য-
﴿وَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ﴾
৮) কিছু লোক এমনও আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহর ওপর ও আখেরাতের দিনের ওপর ঈমান এনেছি, অথচ আসলে তারা মু’মিন নয়।
﴿يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ﴾
৯) তারা আল্লাহর সাথে ও যারা ঈমান এনেছে তাদের সাথে ধোঁকাবাজি করেছে। কিন্তু আসলে তারা নিজেদেরকেই প্রতারণা করছে, তবে তারা এ ব্যাপারে সচেতন নয়।
﴿فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ اللَّهُ مَرَضًا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ﴾
১০) তাদের হৃদয়ে আছে একটি রোগ, আল্লাহ সে রোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন, আর যে মিথ্যা তারা বলে তার বিনিময়ে তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
﴿وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ﴾
১১) যখনই তাদের বলা হয়েছে, যমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করো না, তারা একথাই বলেছে, আমরা তো সংশোধনকারী।
﴿أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَٰكِن لَّا يَشْعُرُونَ﴾
১২) সাবধান! এরাই ফাসাদ সৃষ্টিকারী, তবে তারা এ ব্যাপারে সচেতন নয়।
﴿وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ ۗ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَٰكِن لَّا يَعْلَمُونَ﴾
১৩) আর যখন তাদের বলা হয়েছে, অন্য লোকেরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আনো তখন তারা এ জবাবই দিয়েছে- আমরা কি ঈমান আনবো নির্বোধদের মতো? সাবধান!আসলে এরাই নির্বোধ, কিন্তু এরা জানে না।
﴿وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا إِلَىٰ شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ﴾
১৪) যখন এরা মু’মিনদের সাথে মিলিত হয়, বলেঃ “আমরা ঈমান এনেছি,” আবার যখন নিরিবিলিতে নিজেদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয় তখন বলেঃ “আমরা তো আসলে তোমাদের সাথেই আছি আর ওদের সাথে তো নিছক তামাশা করছি।” (সূরা বাকারা: ৮-১৪)
মুনাফিকের বৈশিষ্ট সম্বলিত উপরের আয়াতগুলো পাঠ করলেই প্রকৃত মুমিনের হৃদয় আঁতকে উঠার কথা। আজকে আমাদের প্রত্যেকের বিবেককে প্রশ্ন করতে হবে। আমরা তো সকলেই নিজেদেরকে মুমিন দাবি করে আসছি। কিন্তু আমরা কি আল্লাহর দেয়া ফরমান অনুযায়ী তাগুতকে বাস্তবে অস্বীকার করতে পেরেছি? আমরা কি ঈমানের পরিবর্তে কুফরীর পথকে যারা প্রাধান্য দেয় তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে পেরেছি? আমরা কি আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রামের পথে জুলুম-নির্যাতনকে সহজভাবে মেনে নিতে পেরেছি? আমরা কি সব ধরনের ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি থেকে বিরত থাকতে পারছি?
যদি পেরে থাকি তাহলে নিঃসন্দেহে আমরা সাচ্চা মুমিন। মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের ঈমানের শক্তিকে আরো বাড়িয়ে দিন, আমীন। কিন্তু কারো মাঝে যদি উপরোক্ত মুনাফিকী বৈশিষ্ট্যের বিন্দু বিসর্গ থেকে থাকে, আন্তরিকভাবে আত্নপর্যালোচনা করে তা থেকে বেরিয়ে এসে খাঁটি মুমিন হওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে। কারণ মুনাফিকের শাস্তি সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, মুনাফিকের অবস্থান হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।
মহান আল্লাহ তা’য়ালা লেখকসহ সকল মুমিন-মুমিনাকে আদনা নেফাক থেকে হেফাজত করুন এবং আমাদের সকলের জন্য জান্নাতের ফায়সালা করুন, আমীন।
ইসলামী আন্দোলনের সাফল্যের জন্য আরো দরকার- আন্তরিকতা, সবর ও ইস্তেকামাত। সবর ও সালাত সম্পর্কে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ﴾
হে ঈমানদারগণ! সবর ও নামাযের দ্বারা সাহায্য গ্রহণ করো, আল্লাহ সবরকারীদের সাথে আছেন। (সূরা বাকারা: ১৫৩)
মাওলানা মওদূদী সবরের কয়েকটি অর্থ করেছেন। তাড়াহুড়া না করা, নিজের প্রচেষ্টার ত্বরিত ফল লাভের জন্য অস্থির না হওয়া এবং বিলম্ব দেখে হিম্মত হারিয়ে না বসা। যা বর্তমানে কিছু কিছু লোকের মধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটাা মোটেই কাম্য নয়। ধৈর্য্যশীল ব্যক্তি সারাজীবন একটি উদ্দেশ্য সম্পাদনের জন্য অনবরত পরিশ্রম করতে থাকে এবং একের পর এক ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েও পরিশ্রম থেকে বিরত হয় না।
সবরের আরেকটি অর্থ হলো- তিক্ত স্বভাব, দুর্বল মত ও সংকল্পহীনতার রোগে আক্রান্ত না হওয়া। বাঁধা বিপত্তির বিরোচিত মোকাবেলা করা। এছাড়া সকল প্রকার ভয়ভীতি ও লোভ লালসার মোকাবেলায় সঠিক পথে অবিচল থাকা। দুনিয়ার স্বার্থ উদ্ধারের পথ প্রশস্ত দেখে এবং সাফল্যের সুযোগ সুবিধা নিজের হাতের মধ্যে পেয়েও পূর্ণ মানসিক নিশ্চিন্ততার সাথে একমাত্র নিজের লক্ষ্য অর্জনের পথে লব্ধ দানের উপর সন্তুষ্ট থাকার নাম ধৈর্য্য।
আলহামদুলিল্লাহ বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহ ছাত্র-ছাত্রী, শ্রমিক আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা সকল ভয়ভীতি ও লোভ-লালসার উর্ধ্বে উঠে বাঁধা বিপত্তির বিরচিত মোকাবেলা করে বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রাকে অব্যহত রাখতে পেরেছে। জামায়াতে ইসলামী যে একটি সত্য আন্দোলন এটাই হচ্ছে বড় প্রমাণ এবং এটি রীতিমত মিরাকলও বটে।
দুনিয়ার সাধারণ আন্দোলনের রঙ্গিন চশমায় ইসলামী আন্দোলনকে দেখতে যারা অভ্যস্ত তারা ইসলামী আন্দোলনের ১০০টি ত্রুটি বের করতে পারবেন। কারণ তারা ইসলামী আন্দোলনের বিজয়ের ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ও মানদন্ড থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছেন। সাধারণ আন্দোলনের সফলতার জন্য যা লাগে ইসলামী আন্দোলন বিজয়ের জন্য তার সবকিছুর দরকার হয় না। আর ইসলামী আন্দোলনের বিজয়ের জন্য যা দরকার হয়, সাধারণ আন্দোলনের কর্মীদের মধ্যে তার ছিটেফোটাও সাধারণত থাকে না।
সাধারণ আন্দোলনের বিজয়ের জন্য প্রয়োজন হয় অর্থ, বিত্ত-বৈভব, জনবল, অস্ত্রবল, রণকৌশল ইত্যাদি। ইসলামী আন্দোলনের বিজয়ের জন্য প্রয়োজন ঈমান, চরিত্রবল, সবর, আন্তরিকতা, আদর্শের উপর অটল-অবিচল থাকা ও আদর্শকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করে আল্লাহর পথে সবকিছুর উৎসর্গ করার প্রবণতা, প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করে শাহাদাতের অমিয় সূধা পান করা ইত্যাদি। সর্বোপরি আল্লাহর সাহায্যের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় এবং মুমিনদের ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে এই সাহায্যের ওয়াদা রয়েছে। মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, “মুমিনদেরকে সাহায্য করা আমার হক্ব”।
বিগত ১০ বছরে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর এ সাহায্যরূপ অস্ত্রের মহড়া আমাদের পক্ষে প্রদর্শন করেছেন। তা না হলে দেশি-বিদেশি ইসলাম বিরোধী শক্তির যে ভয়াবহ হামলা ইসলামী আন্দোলনের ওপর পরিচালিত হয়েছে তাতে এ আন্দোলন টিকে থাকার কথা না। কিন্তু মহান আল্লাহ ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের টিকে থাকার শক্তি যুগিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ এই আন্দোলন টিকে থাকবে এবং তার কাঙ্খিত মঞ্জিলে অতি দ্রুততার সহিত এগিয়ে যাবে। তবে সেজন্য প্রয়োজন একটি সর্বব্যাপি নিয়মতান্ত্রিক সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলা। বাংলাদেশের অধিকারহারা শোষিত বঞ্চিত মানুষের সব ধরনের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এই আন্দোলন ইনশাআল্লাহ নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করবে। এই আন্দোলন যতটুকু অগ্রগতি লাভ করেছে তা সম্ভব হয়েছে মহান আল্লাহর দেয়া তৌফিক মোতাবেক আন্দোলনের ময়দানে সঠিক ভূমিকা রাখতে পারা এবং আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের ত্যাগ-কুরবানী, সবর ও আন্তরিকতার ফলে। সেজন্য লক্ষ্য পানে সুদৃঢ়ভাবে অটল অবিচল থেকে কাঙ্খিত মুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।
মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন-
﴿إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ﴾
৩০) যারা ঘোষণা করেছে, আল্লাহ আমাদের রব, অতপর তার ওপরে দৃঢ় ও স্থির থেকেছে নিশ্চিত তাদের কাছে ফেরেশতারা আসে এবং তাদের বলে, ভীত হয়ো না, দুঃখ করো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ শুনে খুশি হও তোমাদেরকে যার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
﴿نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ ۖ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ﴾
৩১) আমরা এই দুনিয়ার জীবনেও তোমাদের বন্ধু এবং আখেরাতেও।সেখানে তোমরা যা চাবে তাই পাবে। আর যে জিনিসেরই আকাঙ্খা করবে তাই লাভ করবে।
﴿نُزُلًا مِّنْ غَفُورٍ رَّحِيمٍ﴾
৩২) এটা সেই মহান সত্তার পক্ষ থেকে মেহমানদারীর আয়োজন যিনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান। (সূরা হামিম আস-সাজদাহ: ৩০-৩২)
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে দীন প্রতিষ্ঠার কাজ আল্লাহ তা’য়ালার নিজের দায়িত্ব। তিনি মানুষ ছাড়া অন্য সকল সৃষ্টির জন্য তাঁর বিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে কায়েম করেছেন। হিউম্যান বডিতেও তাঁর বিধান তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু মানুষের সামাজিক জীবনের বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষকে তাঁর খলিফা ও আনসারুল্লাহর মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন। মুমিনের দায়িত্ব হলো খলিফা ও আনসারুল্লাহ হিসেবে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
﴿وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ ۚ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ ۚ مِّلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ ۚ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِن قَبْلُ وَفِي هَٰذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ ۚ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَاكُمْ ۖ فَنِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ﴾
‘আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেমন জিহাদ করলে তার হক আদায় হয়। তিনি নিজের কাজের জন্য তোমাদেরকে বাছাই করে নিয়েছেন এবং দীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা আরোপ করেননি। তোমাদের পিতা ইবরাহীমের মিল্লাতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাও। আল্লাহ আগেও তোমাদের নাম রেখেছিলেন “মুসলিম” এবং এর (কুরআন) মধ্যেও (তোমাদের নাম এটিই) যাতে রসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তোমরা সাক্ষী হও লোকদের ওপর। কাজেই নামায কায়েম করো, যাকাত দাও এবং আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যাও। তিনি তোমাদের অভিভাবক, বড়ই ভালো অভিভাবক তিনি, বড়ই ভালো সাহায্যকারী তিনি।’ (সূরা হজ্জ: ৭৮)
এ কাজকে অন্যান্য সকল কাজের উপর অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
﴿قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ﴾
২৪) হে নবী! বলে দাও, যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান ও তোমাদের ভাই তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের আত্মীয়-স্বজন, তোমাদের উপার্জিত সম্পদ, তোমাদের যে ব্যবসায়ে মন্দা দেখা দেয়ার ভয়ে তোমরা তটস্থ থাক এবং তোমাদের যে বাসস্থানকে তোমরা খুবই পছন্দ কর-এসব যদি আল্লাহ ও তার রসূল এবং তার পথে জিহাদ করার চাইতে তোমাদের কাছে বেশী প্রিয় হয়, তাহলে আল্লাহর ফায়সালা তোমাদের কাছে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর আল্লাহ ফাসেকদেরকে কখনো সত্য পথের সন্ধান দেন না। (সূরা তাওবা: ২৪)
আমাদের দায়িত্ব হলো, এ পথে এগিয়ে যাওয়া। যারা এগিয়ে যাবে তারা অবশ্যই আল্লাহর সাহায্য লাভ করবে। আর যারা আল্লাহর সাহায্য পাবে তারা অবশ্যই সফলকাম হবে। তবে সফলতা কখন আসবে তা আল্লাহ তা’য়ালাই নির্ধারন করবেন। আমাদের দায়িত্ব হলো চেষ্টা করে যাওয়া। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা)-কেও আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন, “হে নবী! আপনার কাজ হলো পৌছে দেয়া।” অন্যত্র বলেছেন, “আপনাকে দারোগা করে পাঠানো হয়নি।” আরেক জায়গায় বলেছেন, “হে নবী আপনি চাইলেই হবে না, রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছা লাগবে।”
দ্বীন কখন কোথায় প্রতিষ্ঠিত বা বিজয়ী হবে এটা একান্তই রাব্বুল আলামীনের বিষয়। বিজয় কিংবা ক্ষমতায় যেতে দেরি হচ্ছে এ জাতীয় কথা বলে হইচই করা নিতান্তই ইসলামী জ্ঞানের দৈন্যতা ছাড়া আর কিছুই নয়। মহান আল্লাহ তা’য়ালা কুরআনে সাফল্যের কথা যত জায়গায় বলেছেন তার সব জায়গায় একই রকম বক্তব্য এসেছে। আর তা হলো- তোমাদের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে এবং এমন জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে যার নিচ দিয়ে ঝর্নাধারা প্রবাহিত।
তাই তো আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুমিনদেরকে তাঁর মাগফিরাত ও জান্নাত লাভের জন্য প্রতিযোগিতা করে দৌড়াতে বলেছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রকৃত সফলতা হচ্ছে, আল্লাহর মাগফিরাত লাভ এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করে জান্নাত লাভ করা। আর দুনিয়াতে খেলাফত প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামী আন্দোলনকে বিজয় দান এটা একান্তভাবে আল্লাহ তা’য়ালার ইচ্ছাধীন। দুনিয়াতে কোন এলাকায় যদি সেরকম কোন অবস্থা বিরাজ করে যেখানে দীন প্রতিষ্ঠার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তাহলে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর অনুমোদন ও সাহায্যের মাধ্যমে কোন দল বা জাতিকে দীন প্রতিষ্ঠার সুযোগ দিবেন এবং তারা সফলও হবেন ইনশাআল্লাহ। (সমাপ্ত)
লেখকঃ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিতঃ লিঙ্ক