বায়ুদূষণে ঢাকা বিশ্বের প্রথম স্থান অর্জন করেছে (২৫ নভেম্বর, প্রথম আলো)। ঢাকার বাইরে অন্য শহরগুলোর অবস্থাও ভালো না। এতে মৃত্যুহার বাড়ছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে বায়ুদূষণে মারা গিয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ (১)। দূষণে প্রথম হওয়ার পর মৃত্যুর পরিসংখ্যান যে বাড়বে তা বলাই বাহুল্য।
বায়ুদূষণের বড় উৎস হচ্ছে ইটভাটা, শিল্পকারখানা ও যানবাহনের কালো ধোয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলা। এগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন সরকারী সংস্থা আছে। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্থ এবং রাজনৈতিক অপশাসনের এই দেশে সঠিক আইন, নীতিমালা এবং আইনের প্রয়োগ কি আদতে হচ্ছে? হচ্ছে না তার বড় প্রমাণ দূষণে বিশ্বে ঢাকা প্রথম!
ঢাকা শহরে কত মানুষ বাস করবে, কতটি গাড়ি চলবে তার কোনো নীতিমালা নেই। অনিয়ন্ত্রিতভাবে এগুলো বেড়েই চলেছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে দেদারছে। আইনের প্রয়োগ করতে গেলে বাঁধা হচ্ছে সরকার দলীয় মালিক-শ্রমিক নেতারা।
কাঠ দিয়ে আগুন জালানোর মান্ধাত্বা আমলের ইটভাটা সঙ্গত কারণে নিষিদ্ধ। কিন্তু প্রয়োগের কী অবস্থা? পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে দেশে প্রায় সাত হাজার ইটভাটা আছে। তার মধ্যে ৭৩৫টা ভাটা নতুন প্রযুক্তি এবং নীতিমালা মানছে (২)।
বাংলাদেশে নির্মাণ সামগ্রী খোলা অবস্থায় পরিবহণ এবং সংরক্ষণ করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাস্তার ওপরে বা রাস্তার পাশে বালু ফেলে রাখা হয়। এছাড়া নির্মাণ কাজের বাতিল জিনিসপত্রের ঠাই হয় রাস্তায়। ড্রেন নির্মাণ এবং পরিস্কারের সময় মাটি ও আবর্জনা রাখা হয় রাস্তার ওপরেই। এসবের ওপর দিয়ে গাড়ির চাকা যেতে যেতে ধুলায় পরিণত হয়। বাতাসের ঝাপটায় ও গাড়ির গতির কারণে ধুলা নাক দিয়ে ঢুকে ফুসফুসে বাসা বাঁধে। ঘটাচ্ছে মরণব্যাধি নানা রোগ। না মরলেও ভুগতে হচ্ছে দীর্ঘদিন।
সরকার রাস্তায় পানি ঢালার কথা বলছে (২৫ নভেম্বর, প্রথম আলো)। কিন্তু রাস্তার ধুলা না সরিয়ে কতক্ষণ পানি দিয়ে রাখা যাবে? এখন শুকনো মৌসুম। বৃষ্টি নেই। অল্পতেই রাস্তায় দেয়া পানি শুকিয়ে যাবে। পরক্ষণেই উড়বে ধুলা।
রাস্তায় পানি দিন পাশাপাশি খোঁজ নিন কেনো এতো দ্রুত রাস্তা ভেঙে ধুলায় পরিণত হলো। বাজে নির্মাণ সামগ্রীর কারণে বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ভেঙে গেছে। এখন সে রাস্তা থেকে উড়ছে ধুলা। রাস্তার ধুলা কমলে বুঝবো দেশে দুর্নীতি কমেছে।
(১) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভালুয়েশনের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
(২) বাংলাদেশ সেন্টার ফল এডভান্স স্টাডিস (BCAS) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী।