ঢাকা শহর নানান সমস্যায় জর্জরিত। মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ নগরবাসীকে নাজেহাল করে তুলেছে। এর মধ্যে যানজট সীমা ছাড়িয়েছে। বেদখল রাস্তা ও ফুটপাত চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি করে। এখন ফুটপাত ও রাস্তা পরিস্কার করে দিলে কি সমস্যার সমাধান হবে?
ফুটপাত ও রাস্তা হকার ও পার্কিং মুক্ত করলে সমস্যায় পড়বে এখানের ক্রেতা, বিক্রেতা ও সেবাগ্রহণকারী সবাই। বিশৃঙ্খল ফুটপাতে যা পাওয়া যায় তা স্বস্তা। ফুটপাতের পরিবর্তে দোকান, শোরুম বা গ্যারেজ থেকে সেবা গ্রহণ বা পণ্য কিনতে গেলে বেশি খরচ হয়। ফুটপাতই অল্প আয়-ব্যয়ের মানুষের জীবিকা ও কেনাকাটার জায়গা।
কিন্তু এই স্বস্তার স্বস্থিতে স্থবির ঢাকা দৈন্যতার প্রতিক হয়ে উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথেই সময় চলে গেলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশ্লেষকরা বলেন যানজটে হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে রাষ্ট্রের। দেশ ও দশের ভালোর জন্যই আমাদের সমাধান খুঁজতে হবে।
আমরা লক্ষ্য করি মানুষের ভিড় যেখানে, ফুটপাত বিক্রেতার পসরা সেখানে। হাসপাতালের গেটের আশপাশে ফল ও চা-বিস্কুটের দোকান। বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশনের ঢোকার মুখে বাহারি সব খাবার ও পণ্যের দোকান। মতিঝিলের বিশাল বহুতল ভবনের আনাচে কানাচে প্রচুর ভাতের হোটেল। আর সর্বত্র রয়েছে চায়ের দোকান। বড় বড় জায়ান্ট মোড়ে রয়েছে কাপড় চোপড়ের হকারি।
প্রতিটি বহুতল বাণিজ্যিক বা সেবাপ্রদান ভবনে নেই পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট, ক্যান্টিন, অযুখানা, নামাযের স্থান ইত্যাদি। এগুলোর পরিবর্তে নিচের ফ্লোরে রয়েছে সারি সারি দোকান। যে ভবনের চতুর্দিকে ডাব-আমড়া-চাওয়ালারা অবস্থান নিয়েছে সেখানের গ্রাউন্ড ফ্লোরে ক্যান্টিন থাকলে সমস্যা কিছুটা হলেও দূর হবে। প্রত্যেক ভবনে ক্যান্টিন থাকলে ক্যান্টিনওয়ালারা নিজেদের ব্যবসার স্বার্থেই অন্যদের ফুটপাতে বসতে দিবে না।
হকাররা ক্ষমতাশীলদের বখরা দিয়েই ফুটপাতে বসেন। তাদের উঠানো অত্যন্ত কঠিন একটা কাজ। কিন্তু প্রত্যেক ভবনের নিচে ক্যান্টিন তৈরি করলে হকারদেরও কর্মসংস্থান হবে এবং ক্ষমতাশীলদের সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে।
একই কথা রাস্তায় গাড়ি পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যেসব ভবনের নিচের ফ্লোরে মার্কেট রয়েছে সেগুলোর পরিবর্তে পার্কিং স্পেস তৈরি করতে হবে। গাড়ি সেখানে ভাড়ার বিনিময়ে রাখার সুযোগ দিতে হবে। রাস্তায় বিনামূল্যে অবৈধ পার্কিংয়ের পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে বৈধ পার্কিয়ের ব্যবস্থা করলে ব্যক্তিগত গাড়ি বিলাসও খানিকটা কমে আসবে ইনশাআল্লাহ।
প্রতিটি বহুতল ভবনে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার মতো জনসাধারাণের কাজে আসে এমন ব্যবস্থা ভবনগুলোতে থাকা বাধ্যতামূলক করা দরকার। এটা কোন নতুন ভাবনাও নয়। ফিলিং স্টেশনের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত আছে যে, সেখানে পাবলিক টয়লেট এবং ছোট্ট দোকান ঘর থাকতে হবে। তাহলে একই ব্যবস্থাপনা বহুতল বাণিজ্যিক ভবনে থাকবে না কেন? প্রত্যেক ভবনে কতটুকু পার্কিং স্পেস থাকতে হবে সেটা নির্দিষ্ট করে দেয়া দরকার।
হাসপাতালের বাইরে বিশৃঙ্খল দোকানগুলোকে হাসপাতালের ভেতরে ক্যান্টিন তৈরির মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলায় আনতে হবে। উচ্ছেদের আগে এসব সৃজনশীল চর্চা বাড়ানো দরকার। তবেই সুফল আসবে ইনশাআল্লাহ।