দেশের বিশিষ্টজনদের পক্ষ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ভূমিকা, স্বাধীনতা উত্তর মুক্তিযুদ্ধকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে রাজনীতি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে দলীয় সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠতে না পারা এবং যারাই সত্য উচ্চারণ করবেন তাদেরকে রাজাকার, স্বাধীনতাবিরোধী, মানবতাবিরোধী অভিধায়ে অভিহিত করার ভয়ংকর প্রবণতা সম্পর্কে বহুবিধ প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
যেসব সম্মানিত নাগরিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে তারা কোন অপরিচিত কিংবা সাধারণ কোন ব্যক্তি নন। তাদের অধিকাংশই রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে যাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাদেরকে বীরউত্তম, বীরবিক্রম, বীরপ্রতিক ইত্যাদি খেতাব প্রদান করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের বক্তব্য ও লেখনি থেকে যৎ সামান্য পাঠকদের উদ্দেশ্যে বক্ষমান নিবন্ধে তুলে ধরা হলো।
মহান মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামীলীগের ভূমিকা সম্পর্কে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদের)-এর আধ্যাত্নিক গুরু সিরাজুল আলম খানের পর্যবেক্ষণ এরকম। “আওয়ামীলীগ ছিল এন্টি-লিবারেশন ফোর্স।” সদ্য প্রকাশিত মহিউদ্দিন আহমদ লিখিত ‘জাসদের উত্থান পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি’ গ্রন্থের ৭১ পৃষ্টায় এ কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ্য জনাব সিরাজুল আলম খান স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত ‘নিউক্লিয়াস’-এর উদ্যোক্তা এবং মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানেরও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
“আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধকে পন্য হিসেবে ব্যবহার করছে। বর্তমান ক্ষমতাসীনদের তৈরি মুক্তিযোদ্ধার তালিকা অবৈধ। মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গনের এক লাখ মুক্তিযোদ্ধাকে আজ তিন লাখে রূপান্তরিত করেছে সরকার” কথাগুলো বলেছেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)। গত ১৮/১১/১৪ রোজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি তার এ বক্তব্য তুলে ধরেন। সাংবাদিক সমাবেশে হাফিজ উদ্দিন আরো বলেন, “এ অবৈধ সরকারের আমলে ১৫০জন কর্মকর্তা এবং ১৬জন সচিব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট নিয়ে সরকার থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছে।” তার এ বক্তব্যের কমপক্ষে এক সপ্তাহ পর আমি কলম ধরেছি। এ সময়ের মধ্যে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনের বক্তব্যের কোন প্রতিবাদ করা হয়েছে বলে আমার চোখে পড়েনি। তাহলে ধরে নিতে হবে হাফিজ সাহেবের এ বক্তব্য পুরোপুরি সত্য এবং এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগেরও কোন ভিন্নমত নেই।
অর্থাৎ হাফিজ সাহেবের বক্তব্য অনুযায়ী আওয়ামীলীগ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক স্বার্থে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছে। ইতিমধ্যে আওয়ামীলীগের ব্যাপারে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যবহার করে তাদের দলীয় লোক, দলীয়ভাবে নিয়োগ পাওয়া সরকারী কর্মকর্তাদের দ্বারা সংঘঠিত নানাবিধ দূর্নীতির ঘটনা মিডিয়ার মাধ্যমে গোটা জাতিসহ বিশ্ববাসী অবহিত হয়েছেন। ভুয়া সার্টিফিকেটের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা হওয়া ছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননা প্রদানে তাদের জন্য তৈরি করা ক্রেস্ট স্বর্ণের পরিবর্তে অন্য কিছু দিয়ে তৈরি করার পরও স্বর্ণের তৈরি বলে চালিয়ে দেওয়ার ঘটনা সকলের মুখে-মুখে। আওয়ামীলীগের এসব অপকর্মের ফলে জাতি হিসেবে আমাদের মান সম্মান বিশ্বের দরবারে কোথায় গিয়ে ঠেকেছে?
এমনিতেই মহান মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামীলীগ ও তৎকালীন নেতৃত্বের একাংশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নতুন নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যার ফলে মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামীলীগের অবদান নিয়ে এতদিন জাতি যা জানত বা বিভিন্ন পুস্তকে যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ? তারপরও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আওয়ামীলীগের মিথ্যাচার, নিজেরা যা করেনি তার চেয়ে বেশি করেছে বলে অপপ্রচার, অপরদিকে মুক্তিযুদ্ধে অন্যদের ভূমিকাকে খাটো করা, তাদের ভূমিকাকে কোন কোন ক্ষেত্রে অস্বীকার, কিংবা বিকৃতরূপে প্রচার করা ইত্যাদি বাড়াবাড়ির ফলে যারা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কিংবা বিতর্ককে এড়িয়ে চলার দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু সত্য ঘটনা বা ইতিহাস এতদিন চেপে রেখেছিলেন, তারাও আওয়ামী বাড়াবাড়িতে বাধ্য হয়ে কিংবা সত্যকে প্রকাশ করার বিবেকের তাগিদে দীর্ঘদিন চেপে থাকা তথ্য ও ইতিহাস জাতির সামনে উন্মোচন করতে শুরু করেছেন। ফলে আওয়ামীলীগের থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ার বেদনায় এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যেতে না পারার আশঙ্কায় বেসামাল হয়ে পড়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে যাদের ভূমিকা প্রশ্নের উর্ধ্বে এবং যাদের বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকা ও অবদানের ফলে আমরা স্বাধীন দেশ লাভ করেছি তাদেরকে বলা হচ্ছে দেশদ্রোহী, পাকিস্তানের অনুচর, নব্য রাজাকার ইত্যাদি।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ উত্থাপন করে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সরকার দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি।” তিনি গত ১২/১১/১৪ইং রোজ বুধবার তাঁর নিজস্ব বাসভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ বক্তব্য প্রদান করেন। পরের দিন ‘দৈনিক সংগ্রাম’ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর এ বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো: প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে না মন্তব্য করে কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান সরকারের সময় এদেশে যারা প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন (ডিসি, এডিসি, সিও, ওসি) তারাই প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা হউক। আমরা সাক্ষ্য দিবো। তাহলে বুঝতাম প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। দেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রং-তামাশা হচ্ছে বলে মন্তব্য তাঁর।
সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মখা আলমগীরকে রাজাকার বলায় আদালতে দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার ওয়ারেন্ট জারি করার প্রেক্ষিতে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন কাদের সিদ্ধিকী।
বর্তমানে যাদের বিচার হচ্ছে তারা ‘যুদ্ধাপরাধী’ কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সরকার দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনি। তিনি বলেন, আমি রাজাকারের বিচার চাই না। অপরাধীর বিচার চাই। সে সময় (’৭১ সাল) প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্দেশে সব অপরাধ হয়েছে। এসময় তিনি ’৭১ সালের গেজেট বই এনে সে সময়কার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তালিকা তুলে ধরেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, মহিউদ্দিন খান আলমগীর (সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী) একজন বিশুদ্ধ রাজাকার। তার বিরুদ্ধে কথা বলায় যদি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয় তাহলে আমি গ্রেফতারের জন্য প্রস্তুত আছি। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানাকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে আর যে ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন তিনি মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করেছেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য যে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষমতায়। এখন আমার পুরস্কার পাবার কথা, কিন্তু রাজাকারের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ারা জারি করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে যে সমস্ত বাঙালি পাকিস্তান সরকারের অধীনে চাকরি করেছে তাদের প্রত্যেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত।
কাদের সিদ্দিকী অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মখা আলমগীর পাকিস্তানের দেবদাস ছিলেন। তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করার দাবিও করেছিলাম। আশা করেছিলাম একজন প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী হিসেবে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সোপর্দ করবে। তখন প্রয়োজনে আমি সাক্ষ্য দিবো। কিন্তু তা না করে বরং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকার আদৌ প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় কি না আমি বুঝতে পারছি না। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে কাউকে ঘায়েল করতে, সরকারের বিপক্ষে আছে কথা শুনে না তাদের বাগে নিয়ে আসতে কৌশল বা নাটক করা হচ্ছে কি না তা দেখার বিষয়।
আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী ভুল করে থাকলেও আরও অনেকে ভুল করেছে। তাদেরও ক্ষমা চাওয়া উচিত। কারণ শেখ মুজিব সেদিন পুরো জাতিকে অন্ধকারে রেখে পাকিস্তানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। কোন রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে সমস্যার সমাধান হয় না বলে মত দিয়ে এই বুদ্ধিজীবী বলেন, ইসলামিক দল হওয়ার কারণে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলে দেশের সব ইসলামিক দলকে নিষিদ্ধ করতে হয়। লতিফ সিদ্দিকীকে ধর্ম নিয়ে মন্তব্য করা নিয়ে নাকি জয়ের ব্যাপারে কথা বলার কারণে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেয়া হলো তা জাতির কাছে পরিষ্কার করার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, জয় কত টাকা বেতন কিংবা সম্মানী নিচ্ছে তাও জাতির কাছে পরিষ্কার করা দরকার।” গত ০৯/১১/১৪ রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘৭ নভেম্বর দুনিয়া কাঁপানো গণসিপাহী অভ্যুত্থান ও আজকের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গত ১০/১১/১৪ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি : বিপন্ন গণতন্ত্র-মানবাধিকার’ শীর্ষক গোল টেবিল আলোচনায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “৭১-এ শেখ মুজিবও পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন” দিল্লীর আমলারা বাংলাদেশ চালাচ্ছে উল্লেখ করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ৭১ সালে ভারত মনে করেছিল বাংলাদেশ একটি সিকিম হবে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তা মানতে নারাজ। পরে তারা সিদ্ধান্ত নেয় তাদের আজ্ঞাবহদের দিয়ে বাংলাদেশ চালাতে হবে। ভারতীয় পন্য দিয়ে এদেশ সয়লাব করে দিয়েছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বেনারসি ভারত নিয়ে গেছে। এখন ১০ বিলিয়ন রফতানি নিয়েও তারা খুশি নয়। তারা বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিয়েছে। তারা ট্রানজিটের নাম করে আরও সুবিধা নিতে চাচ্ছে। তারা সবকিছু নেবে কিন্তু পানি দেবে না। আবার রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করবে। এটাতো তাদের জায়গাতেও করতে পারতো। কিন্তু তাদের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের জীববৈচিত্র নষ্ট করা। তিনি বলেন, জামায়াত পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে অপরাধ করে থাকলে সেদিন শেখ মুজিবও পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিলেন। এজন্য তিনি বাংলাদেশের জনগণকে অন্ধকারে রেখে পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন। তাজ উদ্দিনকে তিনি পাত্তা দেননি।”
এদিকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, যুদ্ধকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মরহুম তাজউদ্দিনের যোগ্য উত্তরসূরী জ্যেষ্ঠ কন্যা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখিকা শারমিন আহমদের নিউইয়র্কে প্রদত্ত এক বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশে কারো কথা পছন্দ না হলেই বা কেউ সত্য উচ্চারণ করলেই তাকে রাজাকার, আলবদর কিংবা স্বাধীনতাবিরোধী হিসাবে চিহ্নিত করার এক ভয়ঙ্কর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটা দেশকে মারাত্মক বিপদের জায়গায় নিয়ে যাবে।” গত ১৮/১১/১৪ শনিবার নিউ ইয়র্কে জেলহত্যা দিবসের ওপর এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ধন্যবাদ শারমিন আহমদকে তার সাহসী কণ্ঠের জন্য।
একইভাবে বিশিষ্ট কলামিষ্ট, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ডাকসু’র সাবেক ভিপি, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছেন, “ওরা আর কয়েকদিন পর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ মরহুম তাজউদ্দিন আহমদকেও রাজাকার বলবে।” ইতোমধ্যেই শুধুমাত্র সত্য বলার অপরাধে রক্তস্নাত মুক্তিযোদ্ধে রণাঙ্গনে জীবন বাজী রেখে যারা নেতৃত্ব দিয়ে, লড়াই সংগ্রাম করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন তাদের অন্যতম মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বলা হচ্ছে, তিনি ছিলেন পাকিস্তানের অনুচর। মুক্তিযুদ্ধের উপঅধিনায়ক এয়ার মার্শাল (অব.) একে খন্দকারকে রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দিয়ে তাঁর বিচারের দাবি তুলা হয়েছে। সত্য ভাষণের জন্য বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকেও নব্য রাজাকার বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে।
ওদের দৃষ্টিতে যিনিই ভিন্নমত পোষণ করবেন, সত্য বলবেন, আওয়ামীলীগ করবেন না, তিনিই রাজাকার, স্বাধীনতা বিরোধী, মানবতা বিরোধী, দেশদ্রোহী, বাংলাদেশ বিরোধী ইত্যাদি। নোবেল বিজয়ী ড.মুহাম্মদ ইউনুস যাকে সারাবিশ্ব সম্মান প্রদর্শন করে তাকেও ওরা বার বার অপমাণিত করেছে। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা ড.কামাল হোসেন, বিশিষ্ঠ সাংবাদিক মরহুম এবিএম মূসা, যারা ছিলেন মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের অতি ঘনিষ্টজন তাদের ব্যাপারেও কটাক্ষ করে কথা বলতে ওরা দ্বিধা করেনি। সুপ্রীম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হক, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বি.চৌধুরীসহ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানীয় নাগরিকদের মতামতের তাদের কাছে কোন মূল্য নেই। রাষ্ট্রের সম্মানীয় নাগরিকদের অপমান, বিভিন্ন সময়ে দেশ ও জাতির অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনকারী ভিন্ন মতের নেতৃবৃন্দ যারা বৃহত্তর কল্যাণ চিন্তায় আওয়ামীলীগের সাথে কখনো যুগপৎ কখনো একমঞ্চে আন্দোলন করেছেন, পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা ও মিথ্যা অপবাদের মাধ্যমে তাদেরকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করা ইত্যাদি তাদের মজ্জাগত বিষয়। এমনকি তাদের রাজনীতি ও দলের প্রতিষ্ঠাতা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনকারী রাজনীতিবিদরাও ওদের চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র, অপমান-লাঞ্চনার হাত থেকে রেহাই পাননি।
এ ব্যাপারে জাগপা’র সভাপতি, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জননেতা শফিউল আলম প্রধানের একটি বক্তব্য উল্লেখযোগ্য “আওয়ামীলীগের ইতিহাস প্রতারণা, বিশ্বাসঘাতকতা, দেশবিক্রি ও গুম-খুনের ইতিহাস। ওরা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা ভাসানীকে দল ছাড়তে বাধ্য করেছে। গৃহবন্দী করেছে, জুলুম চালিয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মেধাবী ছাত্রনেতা শামসুল হককে পাগল বানিয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান সংগঠক, যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদকে স্বাধীন দেশের মন্ত্রী সভায় থাকতে দেয় নাই। হানাদার পাক সেনাদের মতো ভিন্নমতালম্বী ত্রিশ হাজার বাংলাদেশী দেশপ্রেমিককে হত্যা করেছে। মুক্তিযোদ্ধের গণতান্ত্রিক চেতনাকে হত্যা করে বাকশাল কায়েম করেছে। গদীর লোভে ওরা বারবার নিজেদের আত্নাকে দিল্লীর কাছে বন্ধক রেখেছে। মাওলানা ভাসানীর ওফাত দিবস উপলক্ষ্যে ১৭ নভেম্বর সোমবার দুপুরে সন্তোষ দরবার হলে জাগপা আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন। প্রধান বলেন, আফসোস খান সেনাদের তত্ত্ববধানে পাকিস্তানের ভাতা ও রেশনে যুদ্ধকালীন ৯ মাস যারা ঢাকার ধানমন্ডিতে নিরাপদ দিন কাটিয়েছে হটাৎ করে তারাই এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ওয়ালী। সত্য কথা বললেই রাজাকার আর ফাঁসি-ফাঁসি আওয়াজ ওঠে। যাদের দাত ও ঠোঁট সেনা-বিডিআর, এতিম-ওলামা ও নিরপরাধ অগণিত শহীদের রক্তে রাঙা সেই খুনের রাণীরাই এখন খুনের অভিযোগ তুলছে। স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও রণাঙ্গনের সাহসী যোদ্ধা শহীদ জিয়াকে আজ প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। অথচ বাকশালের পথ ছিড়ে আওয়ামীলীগের পুনঃজন্ম না দিলে গদিতে বসাতো দূরের কথা শেখ হাসিনাদের ক্ষমতার স্বপ্নও দেখতে হতো না। ৫ জানুয়ারির কুত্তা মার্কা নির্বাচনের পর দেশ এক ভয়ংকর সংকটে, গণতন্ত্র নিহত, স্বাধীনতা বিপন্ন।”
আশার কথা সত্য বলার অপরাধে বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রতি সরকারী দল ও তাদের অনুসারীদের আচরণ যতই মারমুখী হচ্ছে চাপা পড়া সত্য ততই বেশি করে উন্মোচিত হচ্ছে। আমার মনে হয় রাজনীতিতে এটি একটি নতুন ডায়ম্যানশন। ডান-বাম, সেক্যুলার নির্বিশেষে একদল সম্মানিত নাগরিক সাহসীকতার সাথে সত্য ভাষণে এগিয়ে এসেছেন। দেশবাসী তাদেরকে সেল্যুট জানায়। তাদের এ ভূমিকা জননন্দিত। তারা সাহসী ভূমিকার মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি গাইড লাইন তৈরি করে যাচ্ছেন। এজন্য তারা দুনিয়াতেও জনগণের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার জায়গায় স্থান করে নিচ্ছেন আর আখেরাতেও তাদের জন্য রয়েছে নিঃসন্দেহে উত্তম পুরষ্কার। তার একটি ক্ষদ্র দৃষ্টান্ত মরহুম অধ্যাপক ড.পিয়াস করিমের মৃত্যুর পর দেশপ্রেমিক জনতা প্রদর্শন করেছে। এদেশের কত ডান-বাম বুদ্ধিজীবীর মুত্যু এবং তৎপরবর্তী তাদের অনুসারীদের তাদের ব্যাপারে কর্তব্য পালন দেখার সুযোগ হয়েছে। মরহুম পিয়াস করিমের জন্য দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের পক্ষ থেকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা প্রদর্শনের যে দৃশ্য আমরা দেখেছি তার বাসভবনে, বায়তুল মোকাররমে তার নামাজে জানাযায়, তার বাসার পাশে মসজিদে দোয়ার অনুষ্ঠানে তা সত্যিই বিরল।
কিন্তু এর বিপরীত অবস্থাও আলোচনার দাবি রাখে। বাংলাদেশে এখনো বহু লেখক, কলামিস্ট, টকশো আলোচক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের ব্যক্তি আছেন যারা জ্ঞানী, গবেষক ও ইতিহাস সচেতন। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে বুঝা যায়, তার সত্য ইতিহাস সম্পর্কে অবগত। কিন্তু রাজাকার বা স্বাধীনতা বিরোধী তকমা কপালে জুটবে শুধু এ কারণেই তারা সত্য কথা বলা থেকে বিরত থাকেন। কিংবা সত্যকে ঘুরিয়ে বলে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রমাণ হাজির করার চেষ্টা করেন। আর এ সুযোগটি গ্রহণ করে আওয়ামীলীগ আজও ফায়দা লুটে নিচ্ছে। সর্বনাশ হচ্ছে দেশ ও জাতির। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হল, বিভিন্ন পেশার যেসব সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ আওয়ামী আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য অথবা জামায়াতী গন্ধ গায়ে লাগবে, কিংবা জামায়াত কোনভাবে আপনার কথার দ্বারা কোন ফায়দা পেয়ে যেতে পারে, সে আশঙ্কায় সত্য বলা থেকে বিরত থাকেন বা আছেন। তারা সময়ের সঠিক দায়িত্ব পালন থেকে দূরে আছেন। কারণ কারো ভয় কিংবা কারো গন্ধ গায়ে লাগবে কিংবা কেউ ফায়দা পেয়ে যাবে এ আশঙ্কায় সত্য গোপন করা অনেক বড় জুলুম। এ জুলুম আপনার নিজের উপর। এ জুলুম আপনার সন্তানের উপর। এ জুলুম আল্লাহ আপনাকে যে জাতির জন্য সৃষ্টি করেছেন সেই গোটা জাতির উপর। বিভিন্ন পেশার ঐ সব সম্মানিত ব্যক্তিকে মনে রাখতে হবে, যিনি আপনাদের, আমাদের তথা গোটা সৃষ্টি লোককে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আপনাকে, আমাকে মেধা, বুদ্ধি, সত্য উপলব্দি করার মতো সাহসের এ নিয়ামত দিয়েছেন। আর তিনি এই সত্য উপলব্দির ক্ষমতা ও মেধা দিয়েছেন এটা গোপন করার জন্য নয় বরং এটা দিয়ে মানবতার কল্যাণ সাধন করার জন্য। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন- “তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের কল্যাণ করার জন্য।”
আমরা যদি তাঁর দেয়া এই মেধা ও সত্য উপলব্দির ক্ষমতাকে সময়োপযোগী সঠিক পথে কাজে না লাগাই তাহলে নেয়ামতের এ না শুকরিয়ার জন্য তিনি তাঁর প্রদত্ত এই নেয়ামত ও ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারেন। এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে আমাদের জন্য যে মান-সম্মান নির্ধারণ করেছেন তাও অপসারিত হতে পারে। আর সবচেয়ে বড় কথা মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেছেন- “তার চাইতে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যার কাছে সত্য রয়েছে, আর সে তা গোপন করে?
সুতরাং আজকে সময় এসেছে সাহসিকতার সাথে সত্য উচ্চারণের। এ সত্য বলতে গিয়ে রাজাকার, স্বাধীনতা বিরোধী, জামায়াতী, দেশদ্রোহী, মানবতাবিরোধী যাই বলা হোক না কেন, এ সত্য বলার মধ্যেই আপনার, আমার, ভবিষ্যত প্রজন্মের সর্বোপরি দেশ ও জাতির সামগ্রিক কল্যাণ নিহিত। আর এ পথেই মৃত্যুর পর আখেরাতে আল্লাহর সান্নিধ্য ও তাঁর জান্নাত লাভে ধন্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও সত্য উচ্চারণ করতে গিয়ে ইতোমধ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের উপঅধিনায়ককে দেশদ্রোহী আখ্যা পেতে হয়েছে। কি অপরাধে তিনি এ পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেন? তিনি তাঁর বই ‘১৯৭১ ভেতর ও বাহিরে’ লিখেছেন- “১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ পর্যন্ত তৎকালীন আওয়ামী নেতৃত্বের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করার জন্য কোন প্রস্তুতি ছিল না।” ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে কোন যুদ্ধ বা রাজনৈতিক ইতিহাস লিখতে গিয়ে এর পর্যালোচনা মূলক লিখনীর জন্য যিনি মুক্তিযুদ্ধের উপঅধিনায়ক ছিলেন, তাকে দেশদ্রোহী বলে প্রচার ও তার শাস্তি দাবী করা তাদেরই পক্ষে সম্ভব, যারা মুক্তিযুদ্ধে প্রকৃত অর্থে ভূমিকা রাখার পরিবর্তে এটাকে দলীয়করণ ও এর চেতনাকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে বার বার ক্ষমতায় যাওয়া ও ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত রাখতে চায়। ২৬শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বহস্তে লিখিত স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানকারী ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক মেজর জেনারেল মরহুম জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর আখ্যা দেয়ার সাহস যারা করে তারা মুক্তিযুদ্ধকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছে, মেজর (অব.) হাফিজ সাহেবের বক্তব্যকেই প্রমাণ করে। তারা মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলকে শুধুমাত্র দেশের সম্পদ ও স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামের অপরাধে প্রথম কারাবন্দিই শুধু করেনি বরং তাকেও রাজাকার আখ্যা দিতে কুন্ঠাবোধ করেনি।
ওরাই যদি ভাষা সৈনিক প্রফেসর গোলাম আযম, আমীরে জামায়াত, সাবেক সফল মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও সাবেক সফল মন্ত্রী আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ সহ দেশপ্রেমিক জাতীয় ও ইসলামী নেতৃত্বকে রাজাকার, স্বাধীনতা বিরোধী, মানবতাবিরোধী ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে তাদেরকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নানামুখী চক্রান্ত ও অপচেষ্টা চালায় তাতে বিস্মিত ও অবাক হওয়ার কিছুই নেই।
কারণ যারা ছিলেন মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগঠক, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য বীরউত্তম, বীরবিক্রম, বীরপ্রতিক ইত্যাদি খেতাব লাভ করেছেন তারাও যদি সত্য বলার অপরাধে নতুন করে নব্য রাজাকার, পাকিস্তানের অনুচর, দেশদ্রোহী ইত্যাদি খেতাব লাভ করে থাকেন। তাহলে যারা আজীবন ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। যারা অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের পতাকাবাহী। বিভেদের রাজনীতি, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, গণতন্ত্র বিরোধী চিন্তা-চেতনা, আচার-আচরণ এবং সর্বোপরি স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসকদের বিরুদ্ধে যারা ছিলেন সদা সর্বদা সোচ্চার কণ্ঠ, তাদেরকে ‘ওদের’ পক্ষ থেকে রাজাকার, আলবদর, মানবতাবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী আখ্যা দানে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। বরং এটা তাজউদ্দিন কন্যা শারমিন আহমদের ঐ বক্তব্যকেই প্রতিষ্ঠিত করে। “বাংলাদেশে কারো কথা পছন্দ না হলেই বা কেউ সত্য উচ্চারণ করলেই তাকে রাজাকার, আলবদর কিংবা স্বাধীনতাবিরোধী হিসাবে চিহ্নিত করার এক ভয়ঙ্কর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটা দেশকে মারাত্মক বিপদের জায়গায় নিয়ে যাবে।” সুতরাং এ জাতীয় অপতৎপরতার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ ও সচেতন হওয়ার পাশাপামি ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
লেখকঃ কেন্দ্রিয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।